
অনেকের শরীরে জন্মগতভাবে বিভিন্ন ধরনের দাগ থাকে। এসব জন্মদাগ কারও ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হালকা হয়ে যায়, আবার কারও শরীরে সারা জীবন থেকে যায়। জন্মদাগ সাধারণত ত্বকের রক্তনালি কিংবা রঞ্জক পদার্থের অস্বাভাবিকতার কারণে তৈরি হয়। তবে চেহারা বা শরীরের দৃশ্যমান স্থানে থাকা কোনো জন্মদাগ অপসারণ করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
জন্মদাগ সাধারণত দুই ধরনের। প্রথমটি রক্তনালিজনিত জন্মদাগ। এ ধরনের দাগ লাল, গোলাপি বা বেগুনি রঙের হতে পারে। দ্বিতীয়টি রঞ্জক পদার্থজনিত জন্মদাগ, যা সাধারণত বাদামি, কালো, নীলচে বা ধূসর রঙের হয়।
অধিকাংশ জন্মদাগ ক্ষতিকর নয় এবং সেগুলোর চিকিৎসারও প্রয়োজন হয় না। কিছু দাগ সময়ের সঙ্গে হালকা হয়ে যায় বা মিলিয়ে যায়। তবে কিছু জন্মদাগ স্থায়ী হতে পারে।
জন্মদাগ দ্রুত বড় হতে থাকলে, রং বা আকৃতিতে পরিবর্তন দেখা দিলে, রক্তপাত হলে কিংবা ব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চোখ, নাক বা মুখের কাছে বড় জন্মদাগ থাকলেও চিকিৎসকের মাধ্যমে তা মূল্যায়ন করানো প্রয়োজন হতে পারে।
শুধু সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আল্লাহর সৃষ্টির স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন করাকে ইসলামে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। এ বিষয়ে হাদিসে সতর্কবাণী এসেছে।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) উল্কি অঙ্কনকারী ও করানো ব্যক্তি, ভ্রুর লোম উপড়ানো ব্যক্তি এবং দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টিকারীদের অভিসম্পাত করেছেন। এসব কাজের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনা হয়। (সুনানুন নাসায়ি, হাদিস: ৫২৫৩)
তবে জন্মগত কোনো শারীরিক ত্রুটি সংশোধন কিংবা দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট ত্রুটি দূর করার বিষয়টি আলাদা। এ ধরনের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ত্রুটি সংশোধন করাকে আল্লাহর সৃষ্টিতে নিষিদ্ধ পরিবর্তন হিসেবে গণ্য করা হয় না। তাই নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে এমন চিকিৎসা করানো জায়েজ হতে পারে।
হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়্যায় বলা হয়েছে, কারও শরীরে অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড থাকলে তা কেটে ফেলার ক্ষেত্রে প্রাণহানি বা গুরুতর ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা না থাকলে তা অপসারণে বাধা নেই।
একইভাবে কারও মুখে বা শরীরের অন্য কোনো স্থানে জন্মগতভাবে কালো কিংবা লম্বা দাগ থাকলে এবং তা শারীরিক ত্রুটি হিসেবে বিবেচিত হলে, অস্ত্রোপচার বা লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে অপসারণের সুযোগ থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন, সম্ভাব্য ক্ষতি এবং শরিয়তের বিধান বিবেচনা করা জরুরি।
সুতরাং, জন্মদাগ অপসারণের বিধান নির্ভর করে এর উদ্দেশ্য ও প্রকৃতির ওপর। কেবল সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য স্বাভাবিক শারীরিক গঠনে পরিবর্তন আনা এবং জন্মগত বা দুর্ঘটনাজনিত ত্রুটি সংশোধন করা এক বিষয় নয়। নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসা নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি প্রয়োজনে নির্ভরযোগ্য আলেমের মতামত নেওয়া যেতে পারে।



